নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও জনসমাগম এড়াতে নিরলস পরিশ্রম করছে বাংলাদেশ পুলিশ ।  প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন  এলাকায় ঘন ঘন মাইকিং করে জনসমাগম এড়ানোর আহবান জানান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারা দেশের ন্যায়  ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি অলিতে জনসমাগম এড়াতে ও যুবকদের আড্ডা দিতে নিষেধ করার আহবান জানিয়ে মাইকিং করছে বিভিন্ন থানার পুলিশ কর্মকর্তাগণ।

তাঁরা জনগণকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার, ঘর থেকে বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত বাহির না হওয়ার পরামর্শ দিতে থাকেন। সেই সাথে নিষেধ অমান্য করে রাস্তায় একত্রে বসে আড্ডা দেওয়া যুবকদের ছত্রভঙ্গ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজও বিকাল পাঁচটার পরে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় কিছু যুবক রাস্তায় দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। পুলিশকে কাছে আসতে দেখে তারা ক্ষণিকের জন্য সরে গেলেও পুণরায় রাস্তায় অবস্থান করেন। যা দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী  বলেন, এরা এভাবেই প্রতিনিয়ত নিয়ম অমান্য করে রাস্তায় আড্ডা দেয়। এদের  নিষেধ করার পরও শুনেনা। দেশে চলমান কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে এদের কোন দায়িত্ব সচেতনতা নেই।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার,  ফজলুর রহমান জানান, পুলিশ  জনস্বার্থে সারাদিন এত পরিশ্রম করছে, জনগণকে সচেতনতা অবলম্বনের সবিনয় অনুরোধ করছে। অথচ, এরপরও কিছু সংখ্যক দায়িত্ব জ্ঞানহীন ব্যক্তির দরুন আমাদের চেষ্টা ও পরিশ্রম বৃথা যাচ্ছে। তারা বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়াই রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছেন। নিজের সাথে সাথে সকলের জন্য বিপদের সম্ভাবনা সৃষ্টি করছেন।

তিনি আরও জানান, পুলিশ  দরিদ্র পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান, সাধারণ রোগী ও চিকিৎসকদের যাতায়াত সহায়তা সেবা, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে বাসায় পৌঁছে দেওয়া। জীবানুনাশক পানি ছিটানোসহ হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে গিয়ে করোনায় অনেক পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন ।

এই বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা  জানান, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সারাদেশে ২১৮ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

 পাশাপাশি ৬৫২ জন পুলিশ সদস্য হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশব্যাপী প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্যের একটি বড় অংশ সরাসরি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তাদের সুস্থ করে তুলতে পুলিশের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

করোনা শনাক্ত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *