লিয়াকত হোসেন জাহিদ : মানিকগঞ্জে হত নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– সারা পৃথিবীতে করোনা মহামারীতে লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশে ৮ মার্চে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে মহামারি করোনায় চার হাজার ১৮৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন পাশাপাশি ১২৭ জন মৃত্যুবরণ করে। এ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে যখন পুরো বাংলাদেশের মানুষ ঘরবন্দী, কর্মহীন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে নেই খাবার ও প্রয়োজনীয় ঔষধ। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা দুস্থ মানুষদের খাদ্য সামগ্রী, মাস্ক ও ওষুধ দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছে। কেউ কেউ আবার ব্যক্তিগত অর্থায়নে মানব সেবামূলক করছেন, তেমনি একজন মানুষ মানিকগঞ্জের কৃতি সন্তান রাজিদুল ইসলাম রাজিব। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ব্যক্তিগত অর্থায়নে দুস্থ মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় খাবার ওষুধ ও মাস্ক ইত্যাদি। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় লক্ষ টাকার বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ২৭০০ পরিবারকে সাহায্য করেছেন।
রাজিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ, মানুষের উপকার করতে আমার সবসময়ই খুব ভালো লাগে। আর দেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি এই অবস্থায় বেশিরভাগ নিম্নআয়ের মানুষ গৃহবন্দি হয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে মানুষকে যতোটুকু পারছি সাহায্য করছি। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি তার বাড়ি করার কাজ বন্ধ রেখে সে টাকা দিয়ে বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষের সেবা করছেন। শুধু বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার ওষুধ মাস্ক এতেই শেষ নয়, কয়েকজন প্রবাসী ভাই রাজিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। তাদের মধ্যে একজন রাজিদুল ইসলামকে বলেন ভাই টাকা আছে কিন্তু ঘর থেকে বের হতে পারছি না দেশে টাকা পাঠাতে পারছিনা বাবা হার্টের রোগী ঘরে ওষুধ নেই পরিবারের লোকজন না খেয়ে আছে লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারছিনা। রাজিদুল এই প্রবাসী ভাই সহ বেশ কয়েকজন প্রবাসী কে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা করেন। মানিকগঞ্জ জেলার জন্য তিনি চালু করেছেন ফোন করলেই পৌঁছে যাবে খাবার। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে একজন ফোন করে খাদ্য সহায়তা চাইলে তিনি মোহাম্মদপুরে ও খাবার পাঠান। মোহাম্মদপুরসহ ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি অসহায় পরিবারকে তিনি নিয়মিতভাবে সাহায্য করছেন। মিরপুর ২ নাম্বারের একটি বস্তির ত্রিশটি অসহায় পরিবারকে রাজিদুল ইসলাম নিয়মিতভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছেন। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলাসহ প্রতিটি উপজেলায় তিনি মানবিক বাজার নামে একটি বাজার চালু করেছেন। এ বাজার থেকে গরীব ও অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে কাঁচা শাকসবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বিনামূল্যে দিচ্ছেন। ছাত্রলীগের কর্মীদের সার্বিক সহায়তার মাধ্যমে মানিকগঞ্জের প্রত্যেকটা ইউনিয়নে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন রাস্তায় বের হলে দেখি অনেক রিক্সাওয়ালা ভ্যানওয়ালা খালি রিকশা ভ্যান নিয়ে বসে আছে তারা এখন ১০০ টাকা ও প্রতিদিন উপার্জন করতে পারছে না, আমি তাদের বাজার করে দেই।
শুধু দুস্থ আর অসহায়দের নয় নিজের কর্মীদেরও সবসময় খোঁজ খবর নিচ্ছেন তিনি। রাজিদুল ইসলাম বলেন আমার অনেক কর্মী আছে যারা ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার কাজ করছে অথচ তার নিজের ঘরে খাবার নেই। লজ্জায় বলতে পারে না। তিনি বলেন একটা কর্মীকে আমাদের সবার আগে সাহায্য করতে হবে। কেননা তার পেটেই যদি খাবার না থাকে তাহলে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার কাজটা সঠিক ভাবে করবে কিভাবে।
রাজিদুল ইসলাম জানান, মাননীয় প্রধান মানিকগঞ্জ জেলায় অনেক ধনী মানুষ রয়েছে সকলের উচিত দেশের এই পরিস্থিতিতে দুস্থ অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। তিনি আরো বলেন যতদিন দেশে এ মহামারী থাকবে তার পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।